শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১.৩ শতাংশ কমে ৪,০৪৯.৮৩ ডলারে দাঁড়ায়, যা দিনের শুরুতে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিলো। আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণের আগাম দাম (ফিউচারস) ১.৩ শতাংশ কমে ৪,১০৭ ডলারে নেমে এসেছে।
তবে দরপতন সত্ত্বেও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ বেড়েছে, যা গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি।
মূলত মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী সূচকের কারণেই সার্বিকভাবে এই দাম বেড়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা চলতি বছরের জন্য ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে তেলের দাম কমে ইরান যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসাও একটি বড় কারণ।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, টানা চার মাসের লোকসানের ধারা শেষ করার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক ৪,০০০ ডলারের ওপরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বেশ লড়াই করতে হচ্ছে এই মূল্যবান ধাতুকে।
তিনি আরও বলেন, ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোযোগ কেবল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুদের হার বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবেন না—এমন প্রত্যাশাতেই স্বর্ণের দাম ৪,০০০ ডলারের ওপরে টিকে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রায় ২.৪ শতাংশ দরপতনের পর ডলারের দাম এখন স্থিতিশীল রয়েছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতন ছিলো। অন্যান্য মুদ্রার মজুতদারদের কাছে শক্তিশালী ডলার স্বর্ণ কেনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির ৬৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন, যা এক সপ্তাহ আগেও ৮০ শতাংশের বেশি ছিলো।
অন্যদিকে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে চীনের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ মূল্য প্রতিযোগিতায় না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সোলার ফটোভোলটাইক প্যানেলে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান শিল্প ধাতু হলো রুপা।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ২.১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৫৭.৭৬ ডলারে নেমে এসেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৬৫০.১৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ১,২৮১.১৮ ডলারে নেমেছে। তবে দাম কমলেও এই দুই ধাতুই মাস শেষে লাভের পথে রয়েছে।
বসির আহমেদ