মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, “সোমবারের কর্মসূচি আমরা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ, আমরা আর কোনো তরুণকে আহত হতে দিতে চাইনি। ভবিষ্যতেও মিছিল করব না, কারণ পুলিশ আবারও তরুণদের ওপর হামলা করতে পারে।”
দীপকের দাবি, সোমবারের সংঘর্ষে আহত ১৫০ জনের বেশি আন্দোলনকারী বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এই সংখ্যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মোট প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী। এ ঘটনায় ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে হাজারো মানুষ সোমবার পার্লামেন্টের উদ্দেশে মিছিল করতে জড়ো হন। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্বঘোষিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতি ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন লাখো তরুণ, বিশেষ করে জিন-জির সদস্যরা। তাদের মূল দাবি, গত মে মাসে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
মঙ্গলবার সকালেও মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে ১৫০ থেকে ২০০ জন আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। হালকা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ব্যারিকেড বসানোর কারণে শহরের কয়েকটি সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে পড়ে। মিছিল থেকে আপাতত সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেতারা। ফলে ভারতের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ আন্দোলন আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
বসির আহমেদ