ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল: তথ্যমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 23, 2026 ইং
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল: তথ্যমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:
ad728

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনীতির চেয়ে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের মোট সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির ভিত্তি হলো আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো। এ কারণে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হলেও এর বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুদের অন্যতম হয়ে উঠতে পারে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শক্তিশালী যোগাযোগ অবকাঠামো ছাড়া কোনো অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হতে পারে না। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উদ্যোগে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সফর হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এ উদ্যোগে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশকে স্বাগত জানানো হবে। তার মতে, এটি এ অঞ্চলের জন্য একটি বড় কৌশলগত অর্জন হবে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশটি বাস্তবভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে। ‘ভূ-রাজনীতি নয়, আমাদের অগ্রাধিকার অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স অর্জন করি। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়,’ বলেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ