নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকা তারকাদের তালিকায় সবচেয়ে ওপরে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের আগে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালে তাকে ঘিরে একাধিক হুমকির ঘটনা ঘটে।
আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন ঘটে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি। টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে হাতে তৈরি বোমা ও এআর-১৫ রাইফেলসহ স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, তাদের পরিকল্পনা ছিল পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো। ওই পরিকল্পনায় মেসিই ছিলেন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরেও ছড়ায় বোমাতঙ্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। ম্যাচ চলাকালে আবার স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা থাকার খবর দিয়ে পুলিশকে ফোন করা হয়। পরে বিস্ফোরক শনাক্তকারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।
মেসির মতোই নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গত ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান ও থাকার জায়গা সম্পর্কে সন্দেহজনকভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। দুই দিন পর হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোনালদোকে ঘিরে ভক্তদের অতিরিক্ত উন্মাদনাও নিরাপত্তার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কানাডার টরন্টোতে এক ব্যক্তি রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটকে দেন। তাঁর দাবি ছিল, শুধু একটি সেলফি তুলতেই তিনি রোনালদোর কাছে যেতে চেয়েছিলেন। মায়ামিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনকি পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন।
বিশ্বকাপের উত্তেজনায় শুধু তারকাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়েনি, মাঠের পারফরম্যান্স ও ভুলের কারণেও অনেক খেলোয়াড়কে ভয়াবহ হুমকি সহ্য করতে হয়েছে।
প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমনকি প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ৫ ও ৬ জুলাই দেশটিতে এমবাপ্পের প্রতিকৃতি পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে। সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর প্রাণনাশের হুমকি পান আতলেতিকো মাদ্রিদের নরওয়েজীয় ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ। শুধু তাকেই নয়, তার স্ত্রীকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পেনাল্টি মিস করেও রেহাই পাননি কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজ। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি তিনি। আবার স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার ঘটনায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও পান গুরুতর হুমকি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া দল। কোচ হং মিয়ং-বোসহ পুরো দলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বিমানবন্দর পর্যন্ত তাদের কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় যেতে হয়।
তবে হুমকির পরিমাণের বিচারে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ছিলেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। এসব বার্তার বড় অংশই এসেছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।
একই ম্যাচে ভিএআর দায়িত্বে থাকা আরেক ফরাসি কর্মকর্তা উইলি দেলাজোদও হত্যার হুমকি পান। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে তাদের বাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
বসির আহমেদ