ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 2, 2026 ইং
কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:
ad728

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গ্রীন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে অনুষ্ঠিত ‘যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবন্ধিতা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। সঠিক সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীরাও দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও উন্নয়নের সমান অংশীদার হতে পারে। তাই সরকার তাদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণির মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। সবার জন্য প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা প্রতিবন্ধী তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আমি বিশ্বাস করি, ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল আইটি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক বলেন, “যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।”

তিনি বলেন, “উপযুক্ত সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রতিবন্ধী তরুণরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য ও গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম। ভবিষ্যতে বিসিসি, সিএসআইডি ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতার এটি ছিল দশম আয়োজন। এবারের প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগে মোট ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।

এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে ২১ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে ২৫ জন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে ১৫ জন এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি) বিভাগে ৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রথম তিনজন করে মোট ১২ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়।

প্রতিযোগিতায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে মো. শাকিল মিয়া, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে শেখ ইয়ামিন আহসান, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে নাহিন সিরাজ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিভাগে আরিয়ান ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হন।

চ্যাম্পিয়ন চার প্রতিযোগী আগামী অক্টোবরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল আইটি কম্পিটিশন ফর ইয়ুথ উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ (GITC)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। মন্ত্রী জানান, তাদের প্রস্তুতির জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবেন।

অনুষ্ঠানে সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারপারসন কে এম মুজিবুল হকসহ প্রতিযোগী, তাদের অভিভাবক, বিসিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইনসহ গ্রেফতার ৩ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইনসহ গ্রেফতার ৩