আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত টানা চার দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত।
সপ্তাহের শেষ দিনে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন অফিসপাড়ার মানুষ। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। কাজের সন্ধানে বের হওয়া অনেকেই বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, আশ্বিনের শুরুতে সাধারণত শীতের আমেজ অনুভূত হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন, কম বৃষ্টিপাত ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরম বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহও বয়ে যাচ্ছে। আশ্বিনের এই বৃষ্টি স্বাভাবিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে জানান তিনি।
এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে আগাম রবি ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। রংপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় আগাম ধান কেটে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক জমিতে বিজো বপনও করেছেন। বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হলে এসব ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, আগাম রবি ফসলের চাষে কৃষকরা এখনো ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েননি। অধিকাংশ কৃষক আগাম ধান কাটার পর আলু চাষের উপযোগী করে জমি প্রস্তুত করেছেন। ফলে বর্তমান বৃষ্টিতে ফসলের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বসির আহমেদ