এরই উদাহরণ ২৫ বছর বয়সী মারিয়ানা আনতায়া। মাইক্রোসফটের সাবেক এই প্রোডাক্ট ম্যানেজার মনে করেন, আয়ের সক্ষমতা বাড়াতে এআই সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। নিউইয়র্কভিত্তিক এই উদ্যোক্তার ফিনটেক স্টার্টআপ ‘কোয়ান্টিফএআই’ ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য মেশিন লার্নিং মডেল তৈরি ও পরীক্ষা করতে সহায়তা করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সময়ই এআই সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেন আনতায়া। চ্যাটজিপিটির মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বাজারে আসার পরপরই তিনি সেগুলো ব্যবহার শুরু করেন। ফর্মুলা ওয়ানের রেসের ফল অনুমান থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগের কোন দল জিততে পারে, তা বিশ্লেষণেও এআই ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন কোডিংয়ের কাজে।
২০২৩ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর প্রযুক্তি খাতে ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিজাইনসহ বিভিন্ন পদে কয়েক ডজন চাকরির জন্য আবেদন করেন আনতায়া। পরে মাইক্রোসফটে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। সেখানে প্রথমে ভয়েস-সংক্রান্ত ফিচার নিয়ে কাজ করেন। পরে এআই ভয়েস মডেলের জন্য মূল্যায়ন কাঠামো ও বিভিন্ন টুল তৈরি করেন।
বর্তমানে তিনি এআইভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন। সেগুলো কীভাবে তৈরি করেছেন, সেই প্রক্রিয়াও অনলাইনে অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। আনতায়ার মতে, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে বাস্তবে কী তৈরি করা হয়েছে, সেটি দেখাতে পারা অনেক বেশি কার্যকর।
দৈনন্দিন কাজেও এআই ব্যবহার করছেন আনতায়া। কাজের সময়সূচি তৈরি, ই-মেইলের খসড়া উত্তর প্রস্তুত, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ এবং জুমের ওয়েবিনারের পরিসংখ্যান সংগ্রহ—এসব কাজেই এআই কাজে লাগাচ্ছেন তিনি।
তার মতে, প্রযুক্তিটি কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানা একজন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। এআই ব্যবহারের দক্ষতার কারণেই নিজের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বয়স্ক প্রজন্মের তুলনায় কর্মজীবনে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে তরুণদের আগ্রহ বেশি। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের ২ হাজারের বেশি তরুণ কর্মীর ওপর পিডব্লিউসির (PwC) এক জরিপে দেখা যায়, জেন-জির ৬৭ শতাংশ মনে করেন, এআই তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। প্রায় অর্ধেক তরুণ কর্মী মনে করেন, এর ফলে তাদের বেতন ও চাকরির নিরাপত্তাও বাড়তে পারে।
কোনো কোর্স করার আগে সেটি কারা তৈরি করেছে, কতটা হালনাগাদ এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তব কোনো প্রকল্প তৈরি করা যায় কি না—এসব বিষয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন চান্সি। শুধু কুইজ বা সার্টিফিকেটের বদলে বাস্তব কাজ শেখায় এমন প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তার।
কেউ অর্থ খরচ করে প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে প্রথমেই নিজের কর্মপ্রতিষ্ঠান সেই খরচ বহন করবে কি না, তা যাচাই করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার জন্য আর্থিক সুবিধা দিলেও কর্মীদের একটি বড় অংশ তা কাজে লাগান না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এআই শেখার ক্ষেত্রে শুরুতেই অর্থ খরচ না করে সময় বিনিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের জন্য এআই দক্ষতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সময় অনেক সময় প্রশিক্ষণের ফির চেয়েও মূল্যবান হতে পারে। পাশাপাশি কর্মপ্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাসুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও খুঁজে দেখা উচিত।
শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের পরিবর্তে বাস্তব প্রকল্প তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কাজের প্রক্রিয়া সহজ বা দ্রুত করে এমন প্রকল্প ভবিষ্যৎ নিয়োগদাতার কাছে দক্ষতার বাস্তব প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।
এআই ব্যবহারের মাধ্যমে আয় বাড়লে অতিরিক্ত অর্থ পুরোপুরি খরচ না করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে। জরুরি তহবিল গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় বা বিনিয়োগের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের একটি অংশ কাজে লাগানো যেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
বসির আহমেদ