ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মুখোমুখি মাস্ক ও আম্বানি: কি হচ্ছে ভারতের ইন্টারখাতে?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
মুখোমুখি মাস্ক ও আম্বানি: কি হচ্ছে ভারতের ইন্টারখাতে? ছবির ক্যাপশন:
ad728

মাস্কের অভিযোগ, ভারতে তাঁর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। জবাবে রিলায়েন্স বলছে, প্রতিযোগিতাকে তারা ভয় পায় না, তবে মানতে হবে ভারতের আইন। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় একাধিক প্রতিষ্ঠান। তাহলে কি ভারতের ইন্টারনেট বাজারে শুরু হচ্ছে নতুন প্রতিযোগিতা, নাকি এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ ও বাজারের আধিপত্য? মাস্কের অভিযোগের জবাবে ১৬ অক্টোবর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে স্টারলিঙ্কসহ সব প্রতিযোগিতাকেই স্বাগত জানায় তারা। তবে ভারতের আইন ও নীতিমালা মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে।রিলায়েন্স আরও জানায়, তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্রের অপেক্ষা রয়েছে।

তবে ভারত সরকারের বক্তব্য, স্টারলিঙ্কের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। ৯ অক্টোবর দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানান, তিনটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে তাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

অর্থাৎ, লাইসেন্স পাওয়া মানেই গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়া নয়। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার বলছে, দেশি-বিদেশি সব আবেদনকারীর জন্য একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।  জিওর মতো প্রচলিত টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মোবাইল নেটওয়ার্ক, ফাইবার ও অন্যান্য স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয়। অন্যদিকে, স্টারলিঙ্কের নিম্নকক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহারকারীর অ্যানটেনার মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিতে পারে।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা যেখানে ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছানো ব্যয়বহুল, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে এটি প্রচলিত মোবাইল ইন্টারনেটের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। যন্ত্রপাতির খরচ, মাসিক ফি, নেটওয়ার্কের সক্ষমতা এবং সরকারি নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে এর বিস্তার।

এদিকে, শুধু স্টারলিঙ্ক নয়—জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট উদ্যোগও এই বাজারে রয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতাটি কেবল মাস্ক ও আম্বানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রশ্ন। 

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে এই বিতর্কে সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা। একদিকে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের নতুন সুযোগ, অন্যদিকে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন।  

বিভি/ এসআই


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকার যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত 

ঢাকার যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত