ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সার্কুলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের নতুন যাত্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং
সার্কুলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের নতুন যাত্রা ছবির ক্যাপশন:
ad728

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘MoU Signing on Cooperation in the Field of Circular Economy’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত হওয়ায় এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সার্কুলার অর্থনীতি কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন চাহিদা মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, শিল্পখাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমঝোতা স্মারকে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

সমঝোতা স্মারকটি বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের অর্থনৈতিক বিষয় ও জলবায়ু নীতি মন্ত্রণালয়-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিন্টিয়ে ভ্যান ভেলধোভেন। দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

নেদারল্যান্ডসের ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ মন্ত্রী স্টিন্টিয়ে ভ্যান ভেলধোভেন বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে কোনো দেশ এককভাবে এই রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল।

সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতকে জলবায়ু সহনশীল ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
আমাকে অনেক ট্রল করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী

আমাকে অনেক ট্রল করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী