সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাচা আবদুল আওয়াল। সাগরের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সাগর। কিশোর বয়স থেকেই উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে রিকশাভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক সহায়তা করতেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি দোকানের এক ম্যানেজারের সহযোগিতায় প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়া যান তিনি। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করতেন; মাসিক বেতন ছিলো প্রায় ৭০ হাজার টাকা।
পরিবারের ভাষ্য, বেকারিতে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে সাগরের পরিচয় হয়। ওই দালাল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি ও এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে যুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে যাওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে সাগরের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
চাচা আবদুল আওয়াল বলেন, ‘রাশিয়ায় বেকারির কাজ ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা সাগর আমাকে জানিয়েছিলো। আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম। এখন তার এক বন্ধু মৃত্যুর খবর দিয়েছে। দালালের পরিচয় আমরা জানি না।’
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, ‘আমি সবজির ব্যবসা করতাম, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অনেক ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। চার-পাঁচ মাস ধরে তার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এখন শুনছি, ছেলে আর বেঁচে নেই।’
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
বসির আহমেদ