ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদের হত্যা থেকে মামলার রায় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপঞ্জী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
আবু সাঈদের হত্যা থেকে মামলার রায় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপঞ্জী ছবির ক্যাপশন:
ad728
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড অন্যতম বহুল আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়। এ প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-২-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।  আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। তার মৃত্যুর ভয়াবহতা দ্রুত পুরো জাতিকে গ্রাস করে, যা দেশব্যাপী আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। ট্রাইব্যুনাল আজ তার রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়ায়, এই রায় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর একটি কালানুক্রম নিচে তুলে ধরা হলো। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদের মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে তৎকালীন বেরোবি প্রক্টর ছাত্রলীগের কর্মীদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে জোর করে বের করে দেন। এরপর দুজন পুলিশ সদস্য খুব কাছ থেকে আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিগত বছরের ১৩ জানুয়ারি আবু সাঈদের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একটি অভিযোগ দায়ের করে। গত ৯ এপ্রিল, ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় চার অভিযুক্ত- সাবেক পুলিশ উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী আকাশকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখান। এর কিছুদিন পরে গ্রেফতার হন বেরোবি’র সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রফিউল হাসান রাসেল এবং সাবেক কর্মী মো. আনোয়ার পারভেজও। গত বছরের ২৪ জুন, তদন্তকারী সংস্থা তৎকালীন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। একই বছরের ৩০ জুন, আইসিটি-২ বেরোবি’র প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশিদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, প্রাক্তন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু মারুফ হোসেন, প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারি, প্রাক্তন সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, সাব-ইন্সপেক্টর বিভূতি ভূষণ রায় এবং ড. সারওয়ার হোসেন চন্দনসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর ২২ জুলাই, ট্রাইব্যুনাল পলাতক অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ছয়জন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করে। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর, ২৮ আগস্ট আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের ২৫তম সাক্ষী, তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। মামলাটির শুনানি ২০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ জানুয়ারি শেষ হয়, যখন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি সিএভি এর অধীনে রাখে। এটি একটি ল্যাটিন আইনি পরিভাষা, যার অর্থ হলো শুনানি শেষে আদালত তার রায় সংরক্ষিত রেখেছে। সবশেষে, বিচারপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গত ৫ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজ ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
জ্বালানি খাতে প্রতিদিন কত টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, জানালেন

জ্বালানি খাতে প্রতিদিন কত টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, জানালেন