নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কে অভিনন্দন জানিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে বসে পড়েন। একা, নিঃশব্দে। যেন শেষ যুদ্ধ শেষে রণক্ষেত্রে বসে থাকা এক পরাজিত সম্রাট।
বুট ও মোজা খুলতে খুলতে নিজের ভেতরের কষ্ট আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ছিল এক স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্ত।
পরে রানার্সআপের পদক গ্রহণ করেন মেসি। মঞ্চ থেকে নামার সময় নিউ জার্সির গ্যালারিতে সমস্বরে ধ্বনিত হয়—"মেসি! মেসি!"। সেই ভালোবাসার জবাবে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি ফুটবলের এই মহাতারকা। ভেজা চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু।
মেসির ফুটবলজীবনে কান্নার মুহূর্ত নতুন নয়। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের পর কেঁদেছিলেন তিনি। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও একই দৃশ্য দেখা যায়। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর কেঁদেছিলেন আনন্দাশ্রুতে। এবার বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর জয়ের পরও আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। তবে ফাইনাল শেষে তার অশ্রু ছিল অপূর্ণতার, বিদায়ের এবং হারানোর বেদনার প্রতিচ্ছবি।
৩৯ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ব্যালন ডি'অর—সাফল্যের প্রায় সব শিখরই স্পর্শ করেছেন তিনি। তবু নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এবং তৃতীয় ফাইনাল থেকে এবার শূন্য হাতে ফিরতে হলো আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
শিরোপার পাশাপাশি আগের আসরে জেতা সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। অধরাই থেকে গেল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুটও। চলতি আসরে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা ২২ গোলের রেকর্ড ছুঁতে পারেননি মেসি; শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক গোল পিছিয়ে।
এখন ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আর্জেন্টিনার জার্সিতে কী এটাই ছিল লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ? নাকি বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে আরও একবার মাঠে নামার সুযোগ দেবেন ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তি?
বসির আহমেদ