ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ডলারের দাপট, ৪০ বছরের সর্বনিম্নে ইয়েন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 23, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ডলারের দাপট, ৪০ বছরের সর্বনিম্নে ইয়েন ছবির ক্যাপশন:
ad728

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইসিবির নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দিকে গভীর নজর রাখছেন। এই পরিস্থিতির প্রভাব বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম টানা পঞ্চম দিনের মতো বেড়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমে আসায় ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইউরো ও ইয়েনের বিপরীতে ডলারের চাহিদা বাড়ছে।

ইউরো ও ইয়েনসহ প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপক ডলার সূচক শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) চলমান বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে- এমন প্রত্যাশাই বেশি। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ানোর সুযোগ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইতোমধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া ইসিবির জন্য কঠিন হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০২৭ সালের শুরুর দিকের মধ্যে ইসিবি আরও দুই দফা সুদের হার বাড়াতে পারে।

আইএনজির (আইএনজি) জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ মিশেল টুকার বলেন, “আজ (বৃহস্পতিবার) ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রশ্ন হলো, বাজার এটিকে কি কঠোর নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখবে, নাকি সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আগেভাগে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে।”

এদিকে ইউরোর মূল্য শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ কমে প্রতি ইউরোর বিপরীতে ১ দশমিক ১৪০৩ ডলারে নেমেছে।

মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মূল্য ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর কমে ১৬৩ দশমিক ৪৪৫-এ পৌঁছেছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ব্যাংক অব জাপান) সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ধীর ও সতর্ক অবস্থান নেবে- এমন প্রত্যাশার কারণেই ইয়েনের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে, ইয়েনের দর আরও ০ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৬৩ দশমিক ৩৭-এ অবস্থান করছে।

সোসিয়েতে জেনারেলের কৌশলবিদ কিট জুকস বলেন, “অনেকে সাম্প্রতিক ইয়েনের পতনের জন্য ব্যাংক অব জাপানের সতর্ক অবস্থানকে দায়ী করছেন। তবে আমার মতে, মূল সমস্যা হলো তেলের উচ্চমূল্য, যা চলতি বছরে জাপানের ১ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাপানি ইয়েনই জি-১০ মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাপানের দুই বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের (জিবি) সুদের হার ৩১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বৃদ্ধির গতি আরও বাড়াতে পারে।

জাপানের অর্থমন্ত্রী এর আগে একাধিকবার মুদ্রাবাজারে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে সরকার ডলার বিক্রি করে ইয়েন কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই সময় ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৬০-এর ওপরে উঠে গিয়েছিল।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান মালিকা সচদেবা বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ওপরই এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, “সরকারি পেনশন বিনিয়োগ তহবিল (জিপিআইএফ)-কে যদি দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহলে তা ইয়েনের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “তবে ব্যাংক অব জাপানকে যদি নতুন করে সরকারি বন্ড (জেজিবি) কেনার মাধ্যমে বাজারকে সহায়তা করতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ইয়েনের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

সম্প্রতি জাপানের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার দেশের বিশাল সরকারি পেনশন তহবিলগুলোকে অভ্যন্তরীণ সম্পদে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালনা করতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জিপিআইএফ-এর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি পাঁচ বছর পরপর তাদের বিনিয়োগ কৌশল পর্যালোচনা করে। সর্বশেষ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে ২০২৫ সালে।

কৌশলবিদরা বলছেন, জাপানের আর্থিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ইয়েনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাবোব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ জেন ফোলি বলেন, “জাপানের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি নিয়ে বাজারে আস্থা বাড়লেই কেবল অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী মুদ্রাবাজার হস্তক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারবে।”

এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো বাজারের সেই ধারণা দূর করতে পারেনি যে, তারা সরকারি ব্যয় বাড়াতে পারে এবং দেশের বিশাল ঋণের অর্থায়ন ব্যয় কমাতে ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে ভারতের মুখ খোলার পর যা বললেন

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে ভারতের মুখ খোলার পর যা বললেন