এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে কয়েক দিন আগে পার্শ্ববর্তী ট্যাংক জেলায় পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে চালানো আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর থেকে এসব এলাকায় বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামাবাদ থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি কামাল হায়দার জানিয়েছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, আফগানিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করে জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নেয় এবং পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। তাদের লক্ষ্য বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের মতাদর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান এসব হামলা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ হয়। সে সময় পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলাও চালায়।
আলজাজিরার প্রতিনিধি কামাল হায়দার বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে তারা প্রতিপক্ষের স্বার্থে কাজ করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বসির আহমেদ