তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যায় আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক পরাজয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তারা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী গোষ্ঠী সামাজিকভাবে লুকিয়ে থাকলেও তাদের দোসররা প্রশাসন, ব্যবসা—বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যত নেই। জুলাই গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের আর সুযোগ নেই। শুধু দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছে। এটি একটি রাজনৈতিক ভাওতাবাজি। জুলাই অভ্যুত্থানের আগেই আওয়ামী পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগ করে কাপুরুষের পরিচয় দিয়েছে।
শঙ্কার কথা জানিয়ে এই নেতা বলেন, আমাদের মাঝে যতোই বিভেদ থাকুক না কেন, গণঅভ্যুত্থানের সকল পক্ষ ঐক্যবদ্ধ না থাকলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসার শঙ্কা রয়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যই জুলাই চেতনাকে সুরক্ষিত করবে।
শনিবার (১ আগস্ট) এফডিসিতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র—জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান শুধু আওয়ামী সরকারের পতন ছিলো না। জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক ও আদর্শগত পরাজয় ঘটেছে। এই হত্যাকান্ডের দায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
“জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
বসির আহমেদ