তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ওপেনএআই যে তদন্ত শুরু করে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি এআই এজেন্ট কীভাবে পরীক্ষামূলকভাবে সীমাবদ্ধ রাখা পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছিল, তা খতিয়ে দেখা। সেই তদন্তেই আরও কয়েকটি অনুরূপ ঘটনার তথ্য উঠে আসে। বর্তমানে সেগুলোও খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব ঘটনা সীমিত পরিসরের ছিল এবং কোনো এআই এজেন্ট ওপেনএআইয়ের নিজস্ব নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেছে—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নতুন তথ্য দেখাচ্ছে যে উন্নত এআই প্রযুক্তি তৈরির গতি যত দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা ততটা বাড়ছে না। ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক-এর গণিতবিদ মরিস কিওদো বলেন,
"যারা এসব প্রযুক্তি তৈরি করছে, তারাই এখনো সেগুলোকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি।"
রয়টার্স জানিয়েছে, ওপেনএআই ঠিক কতটি ঘটনা শনাক্ত করেছে বা সেগুলো কখন ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি এবং বাইরের বিশেষজ্ঞরা বছরের শুরুর দিকের বিভিন্ন লগ ডেটা বিশ্লেষণ করছেন।
জুলাইয়ের শুরুতে হাগিং ফেসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওপেনএআই তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি এআই এজেন্ট অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় প্রতারণার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েক দিন ধরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অননুমোদিতভাবে কার্যক্রম চালায়।
ওপেনএআই জানায়, ওই ঘটনার সময় আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের চারটি অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল নিউইয়র্কভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি মোডাল।
কিওদোর মতে, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক- দুই প্রতিষ্ঠানই এআই এজেন্টগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সময় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছিল না, যা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকও সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে তাদের কিছু এআই এজেন্ট অনলাইনে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মূল্যায়নের লগগুলো যদি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হতো, তাহলে সমস্যাটি আরও আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
তবে অ্যানথ্রপিকের দাবি, তাদের তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকলেও একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে নির্দিষ্ট এই ধরনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে সেটি কার্যকর করা হয়নি।
এআই এজেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর সরকারি নজরদারির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "আমরা এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি।"
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের ঘটনাগুলো নিয়ে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নার বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে উন্নত এআই মডেল বাজারে আনার আগে বাধ্যতামূলক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চালুর আইন প্রয়োজন।
তার ভাষায়, "এই ঘটনাগুলো আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে উন্নত এআই মডেলের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি।"
সূত্র: রয়টার্স
বসির আহমেদ