ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কর্ণফুলীর তীরে নির্মাণ হবে পর্যটন জোন, সবার জন্য থাকবে উন্মুক্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 23, 2026 ইং
কর্ণফুলীর তীরে নির্মাণ হবে পর্যটন জোন, সবার জন্য থাকবে উন্মুক্ত ছবির ক্যাপশন:
ad728

‘কালুরঘাট সেতু থেকে চাকতাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের অধীনে এই পর্যটন জোনের কাজটি করা হবে।

সিডিএ’র উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী জানান, এই প্রকল্পের অধীনে শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও এখানে শিশুদের জন্য বিনোদন সুবিধাসহ পর্যটক-বান্ধব রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের তহবিল পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় করা হবে।

পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ আহমেদ বলেন- পর্যটন অঞ্চল নির্মিত হলে এই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে- যার মধ্যে মনোরম সমুদ্র দৃশ্য, পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন, জলপ্রপাত এবং হ্রদ অন্যতম। 

সিডিএ’র সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা হলে বন্দর নগরীটি একটি সত্যিকারের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। তবে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নদী পরিষ্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

পর্যটন উদ্যোক্তা এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) পরিচালক এ এস এম ইসমাইল খান বলেন, সরকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে সক্ষম না হলে, বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে এসব কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া উচিত।

সিডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ‘কালুরঘাট-চাক্তাই চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক’ প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের জুন মাসে চাকতাই খালের মোহনায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাস বলেন, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এই সড়কটি সিটি বাইপাস লুপ রোড ও অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সংযুক্ত করবে এবং শহরের যানজট কমাবে।

তিনি বলেন, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা থেকে শহরে আসা যানবাহনগুলো এই সড়কপথ দিয়ে শহর কেন্দ্রকে বাইপাস করে শহরের বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে যেতে পারবে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো থেকে যানবাহনগুলো এর মাধ্যমে শহরের উত্তর দিকেও যেতে পারবে। 

তিনি জানান, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ৯২ শতাংশ নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  সড়কটি পুরোদমে চালু হলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া যাবে। এর ফলে নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নগর যোগাযোগ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানান- এই প্রকল্পে সিডিএ মাস্টার প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলবে। বাকলিয়া চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম অনুন্নত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এই এলাকার উন্নয়নে বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, নগরীর বাকলিয়া একটি জনবহুল এলাকা হলেও এখানে বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এলাকাটির সামগ্রিক চিত্র বদলে যেতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

তাদের মতে, এই নতুন পর্যটন কেন্দ্রটি শুধু বাকলিয়ার মানুষকেই নয়, বরং পুরো চট্টগ্রাম নগরীর মানুষকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্য সহযোগিতায় নতুন সম

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্য সহযোগিতায় নতুন সম