২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। চলমান মৃত্যুর মিছিলের সাথে সাথে প্রতিদিনই পূর্বে বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অনেকের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। বিপুল প্রাণহানি ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিগত দিনগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে নির্দিষ্ট কবরস্থানের বাইরে বিভিন্ন উদ্যান, বাগান, হাসপাতাল চত্বর, স্কুল, শরণার্থী শিবির কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দাফন করতে হয়েছে।
এরই মাঝে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর হামলার মাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলে অস্থায়ীভাবে দাফন করা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে অনেক পরিবার। হাসপাতাল চত্বরের গণকবর থেকেও উদ্ধার করা হয় শত শত দেহাবশেষ। কিন্তু সেগুলো পুনরায় দাফনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা মিলছে না।
গাজার বিভিন্ন কবরস্থান এখন প্রায় উপচে পড়ছে। অনেক জায়গায় নতুন কবরের জন্য একটুকরো জমিও খালি নেই। ফলে কোনো কোনো পরিবার বাধ্য হচ্ছে পুরোনো পারিবারিক কবরে নতুন মরদেহ দাফন করতে। অনেকের সামর্থ্যও নেই নতুন কবর প্রস্তুত করার ব্যয় বহনের।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়েছে অনেক কবরস্থানও। গাজার ধর্মীয় ও ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ৪০টিরও বেশি কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত কিছু জায়গাও এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে জীবিতদের আশ্রয় এবং মৃতদের দাফন, দুই দিকের চাহিদায় তৈরি হয়েছে এক নির্মম সংকট।
কবরের ফলক ও নির্মাণসামগ্রীর সংকটে অনেক কবর এখন চিহ্নিত করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের ইট, মাটি, সাধারণ পাথর বা মৃতের নাম লেখা কাগজ দিয়ে। কোথাও ঢেউটিনের টুকরোও ব্যবহার করা হচ্ছে অস্থায়ী কবরফলক হিসেবে।
যুদ্ধের আগে যেখানে অনেক কবরস্থান ছিল তুলনামূলক ফাঁকা, সেখানে এখন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাজার হাজার নতুন কবর তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের কবর খননকারীরাও বলছেন, এমন ব্যাপক মৃত্যুর চাপ আগে কখনো দেখেননি তারা। যুদ্ধ ও হামলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোনো কোনো কবর খননকারীকে দিনে কয়েক ডজন কবরও প্রস্তুত করতে হয়েছে।
নতুন কবরস্থান তৈরির জন্য জায়গা খোঁজা এবং অস্থায়ীভাবে দাফন করা মরদেহগুলো যথাযথভাবে স্থানান্তর এখন গাজার কর্তৃপক্ষের জন্য বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কেবল জীবিতদের জন্যই জায়গা ফুরিয়ে আসেনি, মৃতদের জন্যও শেষ আশ্রয়ের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
বসির আহমেদ