ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এআইয়ের কাছে জানতে চাইবেন না যেসব বিষয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 23, 2026 ইং
এআইয়ের কাছে জানতে চাইবেন না যেসব বিষয় ছবির ক্যাপশন:
ad728

যে কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সম্ভাবনার কারণে কিছু বিষয়ে এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করাই ভালো। বরং এসব ক্ষেত্রে প্রশ্নের ধরন বদলে এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এমন পাঁচটি বিষয় রয়েছে, যেগুলোতে এআইয়ের কাছে সরাসরি পরামর্শ চাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।

১. ব্রেকিং নিউজ

একসময় চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবটের জ্ঞানভাণ্ডার হালনাগাদ থাকত না। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনা বা তাৎক্ষণিক কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন ছিল। এখন ওয়েব থেকে তথ্য খোঁজার সুবিধার কারণে অনেক চ্যাটবটই প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে সাম্প্রতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

২. আইনি পরামর্শ

চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো চ্যাটবট জটিল আইনি ধারণা বুঝতে কিংবা আইনি নথির কঠিন ভাষা সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে কাজে লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো আইনি বিষয়ে চ্যাটবটের পরামর্শের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়। কারণ, আইন দেশ, অঞ্চল ও পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। আবার কোনো আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে চ্যাটবটকে অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে সেটি নিজের মতো করে তথ্যের ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে কিছু অনুমান করতে পারে। ফলে তৈরি হতে পারে ভুল উত্তর।

তাই আইনি বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়ার পরিবর্তে কোনো আইনি ধারণা বা নথিতে ব্যবহৃত শব্দ ও বাক্যের অর্থ সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা যেতে পারে। এতে বিষয়টি নিজে বোঝার ক্ষেত্রে এআই সহায়ক হতে পারে।

৩. নৈতিক বা আবেগসংক্রান্ত পরামর্শ

নৈতিকতা ও আবেগের মতো জটিল পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে চ্যাটবট অনেকটাই উন্নত হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা কার্যকর পরামর্শও দিতে পারে। তবে এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত ব্যক্তিনির্ভর হওয়ায় এখানে এআইয়ের পরামর্শ সবসময় উপযোগী নাও হতে পারে। চ্যাটবট আপনার ব্যক্তিগত ইতিহাস ও অতীত অভিজ্ঞতার সবকিছু জানে না। ফলে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সেটিকে কিছু তথ্য অনুমান করে নিতে হয়। এর ফলে এমন সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ আসতে পারে, যা আপনার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই নয়।

এ ছাড়া কিছু চ্যাটবট ইতিবাচক ও উৎসাহমূলক উত্তর দেওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আপনার ভুল বা দুর্বলতা নিয়ে কঠিন সমালোচনা প্রয়োজন হলেও তারা অতিরিক্ত সমর্থনমূলক হয়ে উঠতে পারে।

৪. ব্যক্তিগত তথ্য, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তথ্য

এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক বা আর্থিক তথ্যের মতো বিষয় কখনোই অসতর্কভাবে চ্যাটবটে দেওয়া উচিত নয়। যদিও অনেক চ্যাটবটে তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, তবু ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণে ব্যবহার কিংবা সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৫. আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া

কঠিন কোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলে পুরো বিষয়টি এআইয়ের হাতে তুলে দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু এখানেও রয়েছে ঝুঁকি। চ্যাটবট আপনার জীবনের সব খুঁটিনাটি জানে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য তার অজানা থাকে। ফলে নিজের জানা তথ্যের ভিত্তিতে সেটি অনেক কিছু অনুমান করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে, যা আপনার জন্য সঠিক নাও হতে পারে।

তাই বড় কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এআইকে সরাসরি ‘আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নাও’ না বলে, আপনি কী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করুন। এরপর সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধার তালিকা তৈরি করতে বলতে পারেন। চাইলে বিষয়টি নিয়ে আপনাকে কিছু প্রশ্নও করতে বলতে পারেন।

এভাবে এআই আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টির বিভিন্ন দিক সামনে তুলে ধরতে পারে। শেষ সিদ্ধান্তটি তখন আপনার নিজের বিবেচনা, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া সম্ভব হবে।

সূত্র: টেকইয়াহু


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন পে স্কেলে দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, গেজেট প্রকাশ কবে?

নতুন পে স্কেলে দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, গেজেট প্রকাশ কবে?