উত্তর কোয়াজুলু-নাটালের গ্রামীণ এলাকা নকুতুর ১০৫ বছর বয়সী জওয়েলিবি জ্যাক ন্গুবানের ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ। মৃত্যুর আগে তিনি পরিবারের কাছে জানিয়েছিলেন, তাকে যেন মুসলিম রীতিতে দাফন করা হয়। জীবনের শেষদিকে নাতির ধর্মীয় জীবন দেখে ইসলাম গ্রহণ করা ন্গুবানের ইচ্ছাকে সম্মান করে পরিবার। মুসলিম রীতিতে জানাজা শেষে তাকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি নতুন হলেও কোনো বিতর্ক তৈরি হয়নি।
নকুতুর বাসিন্দা সামুকেলিসিওয়ে ন্গুবানে জানান, মুসলিমদের সঙ্গে তাদের কখনো সমস্যা হয়নি। তার ভাই খেথুকুথুলা ড্লামে ২০১২ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের অল্প কয়েকজন পরিচিত মুসলিমের একজন। মুসলিম পোশাক পরার কারণে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঠাট্টা শুনলেও তা কখনো বিদ্বেষে রূপ নেয়নি। ড্লামের ভাষায়, স্থানীয়দের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা ১০ লাখের কম, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে মুসলিম নেতাদের কেউ কেউ এ সংখ্যা ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে বলে দাবি করেন। দেশটিতে ইসলামের উপস্থিতিও বহু পুরোনো। ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৭ শতক থেকেই এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মুসলিমরা কেপ অঞ্চলে আসতে শুরু করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক থেমবিসা ফাকুদে মনে করেন, অনলাইনে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপক বা পরিকল্পিত ইসলামবিদ্বেষ নেই। তার মতে, প্রতিটি সমালোচনাকে ধর্মীয় বিদ্বেষ হিসেবে দেখাও ঠিক নয়।
তবে মুসলিম ধর্মীয় নেতা মাওলানা সুলাইমান রাভাত সতর্ক করে বলেন, অনলাইনে ছড়ানো বক্তব্য দীর্ঘমেয়াদে মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, মুসলিম পরিচয়কে দক্ষিণ আফ্রিকান পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক হওয়া পরস্পরবিরোধী নয়।
নকুতুর বাস্তবতায় এই সম্প্রীতির চিত্র আরও স্পষ্ট। স্থানীয় মুসলিম পরিবারে হালাল খাবার রান্না থেকে শুরু করে ধর্মীয় আলোচনা—সবকিছুতেই সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে অংশ নিচ্ছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্তপ্ত বক্তব্য আর বাস্তব জীবনের সহাবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তবে অনলাইন বিদ্বেষ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে তা সামাজিক বিভাজনের কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
বসির আহমেদ