সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
তিনি জানান, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করে। ওই সচিব কমিটি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সচিব কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ সময় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রিসভা জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করে। একই সঙ্গে জাতীয় বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতন কাঠামোর ভারসাম্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধাগুলোও জাতীয় বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার লক্ষ্যেই নতুন যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর আওতায় বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্যও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পথ তৈরি হলো।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক সুবিধার মধ্যে একটি যৌক্তিক সমন্বয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বসির আহমেদ