ইরানের প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেইন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পরে সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, হামলায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু। আহত সবাইকে কাছের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান তিনি।
ইরানের এসব অভিযোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার পর এসব হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম, মাইন পেতে সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই নতুন হামলা হলো। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। কুয়েতও জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই নিষ্ঠুরতাকে এর আগের ধারাবাহিক নৃশংসতা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।’ যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাব ও লামার্দ শহরে হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের দাবি, মিনাবে মার্কিন বাহিনীর হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আর লামার্দে একটি ক্রীড়া হলে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন।
বাঘাই বলেন, ‘ইরান এসব নৃশংস অপরাধের কঠোর জবাব দেবে। তবে যেসব সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এমন বর্বরতার সামনে নীরব থাকে কিংবা এসব কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বুঝতে হবে—এই নীরবতা কোনোভাবেই নিরপেক্ষতা নয়।’
এদিকে কুহেস্তাক ছাড়াও ইরানের আরও কয়েকটি উপকূলীয় শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কনরাক, বান্দার আব্বাস, জাস্ক, আসালুয়েহ ও আহভাজ শহরের পাশাপাশি কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বসির আহমেদ