ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৭, চলছে উদ্ধার অভিযান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 8, 2026 ইং
দিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৭, চলছে উদ্ধার অভিযান ছবির ক্যাপশন:
ad728

দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচতলা ভবনটিতে রবিবার দুর্ঘটনার সময় দুই থেকে চার ডজন মানুষ ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, ভবনটির বেজমেন্টে জমে থাকা পানি এবং সেখানে চলমান সংস্কারকাজের কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ভবনটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় অবস্থিত ভবনটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছেই। রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। সাউথ ক্যাম্পাসে পাঁচটি কলেজ রয়েছে। ভবনটির অধিকাংশ বাসিন্দাই ছিলেন শিক্ষার্থী। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তখন নিজ নিজ কক্ষে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানান, ভবনটির প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন শুধু বেজমেন্টের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে কমলা রঙের পোশাক পরা বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মীকে কাজ করতে দেখা গেছে। ভারী যন্ত্র দিয়ে ইটের স্তূপ সরানোর পাশাপাশি জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে লোহার গ্রিল কেটে কংক্রিট ও স্টিলের স্তর সরানোর চেষ্টা করছেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কেউ আটকা আছেন কি না বা আরও কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিহত ও আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা নাকি বেজমেন্টে কাজ করা শ্রমিক রয়েছেন—তা জানায়নি।

রোববার ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় এক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা কিছু শিক্ষার্থী ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক দোকানদার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ভবন ধসের শব্দটি ভূমিকম্পের মতো মনে হয়েছিল। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর প্রচুর ধোঁয়া ও ধুলায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার এবং চার শিক্ষার্থীকে জীবিত অবস্থায় বের করা হয়।

দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের একটি ভবন খালি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভবনটি সোমবার ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনটির বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছর। পাশের এক দোকান মালিকের দাবি, ভবনটি ১০০ বছরের ইজারায় ছিল। আয় বাড়াতে হোস্টেলের পরিসর সম্প্রসারণের জন্য ইজারাদার বেজমেন্টে খননকাজ করেছিলেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এক পৌর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভবনটিতে কোনো খনন বা কাঠামোগত কাজ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে পানি চুইয়ে ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ পর্যায়ে ভবন ধসের সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া।

শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকটের কারণে সত্য নিকেতন এলাকায় অনেকেই কম খরচের বেসরকারি হোস্টেল ও পেইং-গেস্ট (পিজি) ব্যবস্থায় থাকেন। ভেঙ্কটেশ্বর কলেজের শিক্ষার্থী সাওয়াই শর্মা বলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একটি শ্রেণিতে ৭৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও কলেজের হোস্টেলে মাত্র দুজনের থাকার সুযোগ হয়। বাকিদের বাইরে থাকতে হয়।

শর্মার এক বন্ধু ওই ভবনে থাকতেন এবং অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভবনটিতে একটি বিছানার জন্য মাসে ১৮ হাজার রুপি ভাড়া দিতে হতো।

আরেক শিক্ষার্থী শিবম যাদব জানান, তাঁর এক বন্ধু দুর্ঘটনার সময় ভবনের তৃতীয় তলায় ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাদবের দাবি, সত্য নিকেতনের অধিকাংশ ভবনেই অতিরিক্ত মানুষের বসবাস রয়েছে এবং অনেক ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় না।

আরেক শিক্ষার্থী অঙ্কিত তিওয়ারি বলেন, এসব হোস্টেল ও পিজির পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। অল্প জায়গায় অনেক শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়। পানি ও পয়োনিষ্কাশনেরও যথাযথ ব্যবস্থা নেই।

দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন বছরে রাজধানীতে এক হাজারের বেশি ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে, যাতে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুর্বল ভিত্তি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে নির্মাণ—এসবকে ভবন ধসের সাধারণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে একটি আবাসিক ভবন ধসে তিন শিশুসহ ১১ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে দিল্লির একটি পরীক্ষার কোচিং সেন্টারের জলমগ্ন বেজমেন্টে আটকা পড়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

সূত্র: বিবিসি


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, শীর্ষে কারা?

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, শীর্ষে কারা?