নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের পর্বতারোহী ও সহায়ক দলের সদস্যরা রয়েছেন। বিদেশি পর্বতারোহীদের আসার আগেই ক্যাম্প প্রস্তুত, পর্বতারোহণের পথ ব্যবস্থাপনা এবং পর্বতে দড়ি স্থাপনের জন্য নেপালি দলটিকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল।
হিমলুং হিমাল নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার এই পর্বত এলাকায় ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। শুরুতে হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
হিমালয়া হলিডেজ ট্রেকিংয়ের কর্মকর্তা বিভূতি চন্দ ঠাকুর বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তাদের অভিযাত্রী দলের অন্তত আট সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন পর্বতারোহী নিখোঁজ, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের নিয়ে গঠিত একটি উদ্ধারকারী দল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘন তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান সোমবারও চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
নেপালের বিভিন্ন পার্বত্য জেলায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টানা বৃষ্টি ও তুষারপাত হচ্ছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্বতারোহণভিত্তিক পর্যটন খাতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তুষারধসের আশঙ্কা বাড়ায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বত মানাসলু থেকেও পর্বতারোহীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
নেপালি পর্বতারোহীদের মৃত্যুর এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন পাকিস্তানের ব্রড পিক পর্বতে প্রায় দুই মাস আগে ছয়জন পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাও ছিলেন।
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আগস্টে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম এখনও চলছে। ওই ঘটনায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিমালয়ে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় নেমে এসে বিভিন্ন জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে এশিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ আবহাওয়ায় ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বাসিন্দাদের বাড়িতে অবস্থান অথবা উঁচু তলায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই একটি শক্তিশালী টাইফুন টোকিওতে আঘাত হানে। এতে আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং চারজনের মৃত্যু হয়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ঝড়ের তীব্রতা বাড়াতে ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমুদ্রের তুলনামূলক উষ্ণ পানির এ পরিস্থিতি শক্তিশালী ঝড় তৈরিতে সহায়তা করে।
সূত্র: বিবিসি
বসির আহমেদ