ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ডাবল ডোজ প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও ব্যর্থ ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 1, 2026 ইং
ডাবল ডোজ প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও ব্যর্থ ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড! ছবির ক্যাপশন:
ad728

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টেনেসির ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট অব আপিল ২-১ ভোটে তা স্থগিত করে। শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে পাইকের অভিযোগ সাজা নির্ধারণের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার জন্য আদালত এই স্থগিতাদেশ দেয়।

পরে টেনেসি কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে সর্বোচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ বাতিল করে। ফলে একই দিন সন্ধ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে কর্মকর্তারা পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি বলে তার আইনজীবীরা জানান।

কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, একপর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষের পর্দা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পর্দা খোলা হলে পাইকের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে আইনজীবীরা জানান। রাত প্রায় ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর কারাগার থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স বের হতে দেখা যায়।

টেনেসি সংশোধন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে তারা অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত সব প্রটোকল অনুসরণ করেছে। তবে দুই ডোজ দেওয়ার পরও বন্দী জীবিত থাকলে এরপর কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে বিদ্যমান প্রটোকলে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাইককে প্রথমে বুধবার সকাল ১০টায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট অব আপিল ২-১ ভোটে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে। আদালত জানায়, পাইকের শৈশবের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সাজা নির্ধারণের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। পরে সর্বোচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দেয়। তিনজন বিচারপতি এতে ভিন্নমত জানান। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়রসহ ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতিরা পাইকের অভিযোগ আরও বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত বলে মত দেন।

১৯৯৫ সালে টেনেসির নক্সভিলে একটি চাকরির প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইক ও তার প্রেমিক ট্যাডারিল শিপকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

অপরাধের সময় শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পাইক হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা তার বয়স, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শৈশবে নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর পাইকের বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। তার আইনজীবীরা আরও বলেছেন, শৈশব থেকেই তিনি গুরুতর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে অন্তত ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা ঘটত। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৮ নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১ শতাংশ।

পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
এবার মোদিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানালেন ‘ককরোচ দীপক’ !

এবার মোদিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানালেন ‘ককরোচ দীপক’ !