প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা, অর্থাৎ ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার মিনিট ভিডিও কনটেন্ট দেখা হয়। এই সময়টিকে একটানা ভিডিও দেখার সঙ্গে তুলনা করলে তা প্রায় ৪০ বছরের সমান। অর্থাৎ, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে যে পরিমাণ ভিডিও ব্যবহার হয়, তা দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা স্ট্রিম করা সম্ভব।
তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যে শুধু সিনেমা নয়, প্রতিদিনের অসংখ্য রিল স্ক্রল, মিউজিক ভিডিও, অনলাইন ক্লাস, লাইভ স্পোর্টস সম্প্রচার, ভিডিও কল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিরিজ দেখাও অন্তর্ভুক্ত। ফলে ভিডিও এখন বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনের অন্যতম প্রধান অংশে পরিণত হয়েছে।
ভিডিও ব্যবহারের এই দ্রুত বৃদ্ধি ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে। এখন একজন ব্যবহারকারী ভিডিওতে ‘Play’ চাপার পর সেটি যেন সঙ্গে সঙ্গেই চালু হয়, বাফারিং ছাড়াই চলতে থাকে এবং লাইভ স্ট্রিমিং বা ভিডিও স্কিপ করার সময়ও যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
এই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অবকাঠামো অপরিহার্য বলে জানিয়েছে গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও ট্রাফিক সামলানোর জন্য নেটওয়ার্কের capacity, অর্থাৎ পর্যাপ্ত ডেটা বহনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৬০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামকে একটি ‘৬০ লেনের ডিজিটাল মহাসড়ক’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেমন প্রশস্ত সড়ক একসঙ্গে বেশি যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেয়, তেমনি বড় স্পেকট্রাম একই সময়ে বিপুল পরিমাণ ভিডিও ডেটা পরিবহনে সহায়তা করে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ৫জি নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ২০০ Mbps পর্যন্ত গতি ব্যবহারকারীদের ভিডিও-নির্ভর ডিজিটাল জীবনধারার জন্য অতিরিক্ত সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ভিডিও দ্রুত চালু হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো local cache ecosystem। গ্রামীণফোনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বহুল ব্যবহৃত ভিডিও কনটেন্ট দেশের ভেতরেই ব্যবহারকারীদের কাছাকাছি সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রতিবার বিশ্বের দূরবর্তী কোনো সার্ভার থেকে সেই কনটেন্ট এনে প্রদর্শন করতে হয় না। এতে কনটেন্ট ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সময় কমে যায় এবং ভিডিও আরও দ্রুত চালু হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিডিওর first byte মাত্র ৫৫ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই লোড হতে পারে, যা মানুষের চোখের পলক ফেলার সময়েরও কম। গ্রামীণফোন জানায়, লাইভ স্ট্রিমিং শুরু করা, ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশে এগিয়ে যাওয়া কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পরবর্তী পর্ব চালু করার মতো প্রতিটি অভিজ্ঞতার পেছনেও দ্রুত নেটওয়ার্ক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে তাদের ২৪ হাজারেরও বেশি ৪জি নেটওয়ার্ক সাইট এবং দেশের ৯৮.৬ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা। শহরের ব্যস্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকাতেও নির্ভরযোগ্য ভিডিও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অবকাঠামো পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রামীণফোনের মতে, ব্যবহারকারীরা যখন কোনো ভিডিও সঙ্গে সঙ্গে চালু হতে দেখেন, লাইভ ম্যাচ নির্বিঘ্নে উপভোগ করেন কিংবা প্রিয় সিরিজ বাফারিং ছাড়াই দেখতে পারেন, তখন এর পেছনে থাকা জটিল প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া তাদের চোখে পড়ে না। তাদের কাছে পুরো অভিজ্ঞতাটি সীমাবদ্ধ থাকে একটি সাধারণ কাজেই—Play চাপ দেওয়া, আর ভিডিও চলতে শুরু করা।
বসির আহমেদ