আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২৮ সদস্যের লেবাননের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থনে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিল পাস হয়। তবে বিলটির বিরোধিতা করেছে হিজবুল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লক।
বিলটি পাস হওয়ার পর লেবাননের বিচারমন্ত্রী আদেল নাসসার এটিকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নতুন আইনের ফলে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এর সঙ্গে কঠোর শ্রমের বিধানও রাখা হয়েছে।
তবে লেবাননে ২০০৪ সাল থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ ছিল। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না হলেও আদালতগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া অব্যাহত ছিল।
বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ লেবাননের কারাগারে ৮৫ জন বন্দি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে আটক ছিলেন।
লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি একে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে।
তবে নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননের কারাগারগুলো এমনিতেই ধারণক্ষমতার সংকটে রয়েছে। ফলে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি ১৯৯০ সালে শেষ হওয়া লেবাননের গৃহযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও পার্লামেন্টে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত আইনে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত কিছু বন্দির সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে লেবাননের বিচারব্যবস্থার একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমা নিয়ে চলমান বিতর্কও দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বসির আহমেদ