প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর ১১৫টি ড্রোন এবং একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ৯৮টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও একটিও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, "আজ যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জীবন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা থাকলে বাঁচানো যেত। আমাদের অংশীদারদের বুঝতে হবে, এসব ব্যবস্থা সরবরাহে বিলম্ব বা অনীহা সরাসরি আরও প্রাণহানি ও ধ্বংসের কারণ হচ্ছে।"
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছে কিয়েভ। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে। তবে পরে তিনি সুর বদলে বলেন, এই প্রযুক্তি হস্তান্তর করা "সহজ বিষয় নয়"।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া হামলায় সাতটি স্থানে আঘাত হানে রাশিয়া। জেলেনস্কি জানান, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বেসামরিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদাম, একটি ব্রুয়ারি এবং নির্মাণসামগ্রীর গুদাম।
তিনি আরও বলেন, যারা এখনই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে প্রস্তুত নয়, তারা অন্তত রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। তার ভাষায়, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের একটি বড় অংশ এখনও নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে। এ বিষয়ে জি–৭, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মিত্র দেশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারকর্মীরা শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি গুদাম থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
তিনি জানান, আহতদের মধ্যে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক রয়েছেন এবং অন্তত চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় একাধিক গুদাম ও সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। শহরের উপকণ্ঠে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক ভবনের পাশে পড়ে।
এছাড়া হামলার ফলে একটি স্থানে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।
হামলার সময় কিয়েভজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরও শহরের আকাশে ধোঁয়া এবং পোড়া গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কিয়েভের বাসিন্দা নাতালিয়া রেউৎসকা বলেন, "রাতটি ছিল ভয়াবহ। এখন প্রতিদিন ঘুম ভেঙে মনে হয়—আজও বেঁচে গেলাম। এই অনুভূতিটাই সবচেয়ে ভয়ের।"
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কেন্দ্র এবং সরবরাহ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যদিও ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাশিয়ার অভ্যন্তরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর লজিস্টিক হাবসহ একাধিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। সম্প্রতি এ ধরনের এক ডজনেরও বেশি লজিস্টিক কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কিয়েভ।
সূত্র: গার্ডিয়ান
বসির আহমেদ