নেপালে অনেক বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। শুরুতে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরে কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল।
নেপালের এক সরকারি কর্মকর্তা ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’কে বলেন, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে তাদের দেশগুলো থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কিছু এলাকায় সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের দল পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। এসব দল মূলত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষায় সহায়তা করবে।
এর আগে ভারতসহ আটটি দেশের বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল নেপাল। তখন সরকার জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের সক্ষমতার ওপরই তারা আস্থা রাখতে চায়।
তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে অগ্রগতি না হওয়ায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস উদ্বেগ জানাতে শুরু করে। একটি দূতাবাসের কর্মকর্তা বলেন, তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় নিজেদের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুরোধও উপেক্ষিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিদেশি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর নেপাল সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকাতেই আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবহার করা হবে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, সহায়তার জন্য তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চার দেশের বিশেষজ্ঞ দলকে কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বুধবারের বন্যায় দুই জেলায় মোট ১৪টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—রাসুয়ায় আটটি এবং নুয়াকোটে ছয়টি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারের হড়পা বান ও বন্যার পর শুক্রবার পর্যন্ত ৫৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৯৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তারা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়াসহ ৩১টি দেশ থেকে নেপালে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
বসির আহমেদ