ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মামদানির নজিরবিহীন পদক্ষেপ, নিউইয়র্কের স্কুলে নিষিদ্ধ হলো এআই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 4, 2026 ইং
মামদানির নজিরবিহীন পদক্ষেপ, নিউইয়র্কের স্কুলে নিষিদ্ধ হলো এআই ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন মামদানি। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার ঠিক আগে এই ১ বছরের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব ফেলবে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের প্রধান কামার স্যামুয়েলসকে সাথে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানান মামদানি। প্রযুক্তি নির্ভরতার চেয়ে মানবিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়ে মামদানি বলেন, ''অধিকাংশ সময়ই ছোট শিশুদের জন্য জেনারেটিভ এআই-এর সুফল তুলে ধরে আপনাদের সামনে বিভিন্ন গবেষণা আনা হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় সেগুলো আসলে তারাই অর্থায়ন করেছে। তাদের সাথে পরবর্তীতে এই ধরণের টুলস পাওয়ার জন্য আপনাকে চুক্তি করতে হবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে সত্যিই এমন সব টুলস তুলে দিচ্ছি যেগুলো তাদের জন্য কল্যাণকর। কেবল ব্যবসা বা মুনাফার স্বার্থে তৈরি করা কোনো প্রযুক্তি নয়।''

এই নীতির অধীনে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি যাচাইকৃত এআই প্রোগ্রাম পরীক্ষামূলকভাবে চলবে। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক এআই সাক্ষরতা পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। এআই টুলসগুলো বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে শিক্ষাগত মূল্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা এক বছর পর এই স্থগিতাদেশ মূল্যায়ন করবেন।

বিশেষজ্ঞরা নতুন এই বিধিনিষেধকে স্বাগত জানালেও সময়সীমা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা ফেয়ারপ্লে-এর নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, "ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এআই-এর কোনো সুফল আছে বলে আমি মনে করি না। সত্যি বলতে, ছোটদের কম্পিউটার দেখে শেখারই প্রয়োজন নেই। বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা, বই পড়া, সহপাঠীদের সাথে মেলামেশা করা এবং বাস্তব জীবনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাই খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়। গত ১৫ বছর ধরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে যে, প্রতিটি শিশুর হাতে ডিভাইস তুলে দিলে নাকি শিক্ষার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বাস্তবে শিক্ষার্থীদের কোনো লাভই হয়নি, পরীক্ষার নম্বর আরও কমেছে। তাই আমাদের আবার শিকড়ে বা মূল শিক্ষাপদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া উচিত। আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।"  

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের জেনারেটিভ এআই এবং এআই চ্যাটবট সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির জন্য ৪৫ মিনিট স্ক্রিন টাইম নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাইস্কুল পর্যায়ে এআই একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়নি। সেখানে এআই-এর নৈতিক ব্যবহার ও ঝুঁকি নিয়ে বছরে দু'টি সেশন নেওয়া হবে এবং শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পাইলট প্রোগ্রাম চলবে। এছাড়া শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা বা দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহার করতে পারবেন, তবে পরীক্ষার নম্বর দেওয়া বা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে এআই ব্যবহার করতে পারবেন না।

সূত্র: এপি


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ঠেকাতে পারেনি কিয়েভ: ১৭ প্রাণহানি, মিত্রদ

একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ঠেকাতে পারেনি কিয়েভ: ১৭ প্রাণহানি, মিত্রদ