ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইস্তাম্বুলে ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 15, 2026 ইং
ইস্তাম্বুলে ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের ছবির ক্যাপশন:
ad728

আলজাজিরার যাচাই করা একটি নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, অচেতন অবস্থায় কিশোরটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে উদ্ধার ও চিকিৎসার চেষ্টা সত্ত্বেও তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। নিচতলা বা বেজমেন্টের ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতের বেলায় ভবনের ওপরের তলায় অবস্থান করতে বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে খাল, আন্ডারপাস ও বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার পুরো শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী ও ছোট শিশুদের মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে কার্যকর হওয়া মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৮ হাজার কর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

তুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে তলিয়ে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন পানিতে আটকা পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট ও বেজমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।

ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়াসংক্রান্ত ঘটনায় জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কাছে আড়াই হাজারের বেশি অভিযোগ ও সহায়তার আবেদন আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যা এবং ১৫টি ভূমিধসের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এ ছাড়া ৪৭ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যায় ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তুরস্ক টুডে জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলার কয়েকটি স্থানে সড়কের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এসেনইউর্ট জেলায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।

শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়ক পানিতে ডুবে যায় এবং যানবাহন আটকা পড়ে। বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। দুটি হাসপাতালেও বন্যার পানি পৌঁছায়। এ ছাড়া হাজিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ দিয়ে পানি প্রবেশ করে।

সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়টির সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ধসে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরি আসলান জানান, শহরের কিছু এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

সূত্র: আলজাজিরা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিমান-বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১ উড়োজাহাজ সংগ্রহে সম্পূরক চুক্তি

বিমান-বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১ উড়োজাহাজ সংগ্রহে সম্পূরক চুক্তি