প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আ. লীগ খলনায়ক বানিয়েছিলো: হাসান হাফিজ
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Mar 28, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
আওয়ামী লীগ একাই দেশ স্বাধীন করে নাই। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বিক্রির মাধ্যমেই গলদটা শুরু হয়েছে। বিগত সময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিকৃষ্ট ভাবে দলীয়করণ করেছে। স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তারা খলনায়ক বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছিলো বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। শনিবার (২৮ মার্চ) এফডিসিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিরোধী মতকে কথায় কথায় স্বাধীনতা বিরোধী বলা হতো। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে তাদের সকল অবৈধ সুবিধা বাতিল করতে হবে। আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কুক্ষিগত করে পারিবারিকীকরণ করেছিলো। এমন কি তারা নাম মাত্র মূল্যে গণভবন লিখে নিয়েছিলো। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রনয়ন করতে হবে। এ দেশে যাতে আর কখনো ফ্যাসিস্ট ফিরে আসতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মুক্তির আন্দোলন শেষ হয়নি। শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ হওয়ার আগপর্যন্ত মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমরা একটি মানচিত্র, একটি পতাকা, একটি ভূখন্ড পেলেও স্বাধীনতার সুফল এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। স্বাধীনতার অঙ্গীকার অনুযায়ী এখনো সাম্য ও মানবিক মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্র গঠন করা যায়নি। সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। যে তালিকা আছে সেই তালিকায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। ১৪ লক্ষ সরকারি চাকুরিজীবির মধ্যে ৯০ হাজার ৫ শত ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকুরি করছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সরকারি চাকুরীতে কর্মরত ৮ হাজার জনের সনদই সন্দেহজনক। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধদের সঠিক তালিকা প্রনয়ন করে এর সঠিক সংখ্যা জাতিকে অবহিত করতে হবে। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পেতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতি পরিচালনা করতে হবে, যাতে এদেশে আর কোন স্বৈরাচার ফ্যাসিস্টের আবির্ভাব না ঘটে। ৭১ ও ২৪ একই সুতায় গাঁথা হলেও ২৪—এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭১—এর মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি করা ঠিক হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দলীয় করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার অপপ্রয়াস করেছিলো একটি গোষ্ঠী। ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানে সেই অপশক্তির পতন ঘটেছে। প্রকৃত স্বাধীনতার সুফল পেতে আইনের শাসন, মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তাই তরুণ প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করা না গেলে দেশ দুর্বল রাষ্ট্রে পরিগণিত হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি’র বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক মো. আল—আমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
বসির আহমেদ
কমেন্ট বক্স