এদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৯টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২২৩ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়। তবে সপ্তাহের হিসাবে দাম কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের আগাম সরবরাহের চুক্তির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৫৪ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদেরা সেপ্টেম্বরে ৯০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাস্তবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিমাণ সেই পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার্স বলেন, সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা কিছুটা কমে যাওয়ায় ডলারের দর দুর্বল হয়েছে, যা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া স্বর্ণের বাজারে আগে অতিরিক্ত দরপতন হওয়ায় এখন দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারের কারিগরি চিত্র এখনো খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সুদের হার বাড়ানোর প্রবণতা আবার শুরু হলে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবরে সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর বিষয়ে ফেডারেল রিজার্ভের অন্তত দুই শীর্ষ নীতিনির্ধারকের বিরোধিতাও চলতি মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা জোরালো করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং সে পরিস্থিতিতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ এখনো মূল্যস্থিতিকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে—এ বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্টরা সচেতন। তবে ট্রেজারি বন্ডের সুদহার যদি সত্যিই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে থাকে, তাহলে স্বল্প মেয়াদে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ ডলার ৭ সেন্ট হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৪০ ডলার ৫৩ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৯৭ ডলার ৪৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে এই তিনটি মূল্যবান ধাতুর দামও কমার পথে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বসির আহমেদ