নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের রিপন মিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা সদর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বিবাহিত রিপন মিয়া একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার বহুল পরিচিত সংলাপ ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার সূত্রে একই এলাকার বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তিনি টার্গেট করেন। কনটেন্ট বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জরুরি কথা বলার অজুহাতে ভিকটিমকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন।
ঘটনার পর গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় লোকজন রিপন মিয়াকে আটক করে। পরে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে রিপন মিয়ার কাছ থেকে অপরাধের স্বীকারোক্তি নিয়ে মেয়ের বিয়ের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা বসতভিটার জায়গা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ৭ দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন স্থানীয় মাতব্বররা।
ওই সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, রিপন এর আগেও একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। ভিকটিমের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় শুরুতে থানায় না গিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিচার চেয়েছিল।
তবে রিপন মিয়ার স্ত্রী এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তার স্বামীর নির্দোষ প্রমাণের জন্য ভিকটিম ও রিপনের ডাক্তারি ও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার দাবি জানান।
বিষয়টি নজরে আসার পর ৪ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের। তিনি স্পষ্ট জানান, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে বেআইনিভাবে সালিশ বসিয়ে টাকা দিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
পরবর্তীতে ওই দিন (৪ আগস্ট) রাতেই ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে নেত্রকোণা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামি রিপন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।
মামলা দায়েরের পর র্যাব-১৪ এর একটি দল ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানা এলাকায় আভিযান পরিচালনা করে আত্মগোপনে থাকা রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোণা সদর থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের মূল ঘটনার পাশাপাশি বেআইনি সালিশ বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, তাদেরও শনাক্ত করে আইনি আওতায় আনা হবে।
বসির আহমেদ