রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে ব্যারিকেড টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেন পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের ঠেকাতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। তবে পানির ঝাপটায় ভিজে গেলেও বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ উল্লাস করতে ও নাচতে দেখা যায়।
এই উত্তেজনার কয়েক সপ্তাহ আগেই ‘ককরোচ আন্দোলন’ নামে পরিচিত তরুণদের নেতৃত্বাধীন একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনলাইনে রসিকতা হিসেবে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন পরে জাতীয় পর্যায়ে ক্ষোভে রূপ নেয়। জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ওই আন্দোলন বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যাপক চাপের মুখে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ হয়।
বিক্ষোভকারী পীযূষ কুমার সোনি প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘লাঠিচার্জ ছিল বর্বরোচিত। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলাম, কিন্তু সরকার আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।’
বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত সত্য বের করতে হলে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
তাঁদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। এসব কেলেঙ্কারির কারণে তরুণরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ঝাড়খণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই বেকারত্বের হার বেশি। ফলে সরকারি চাকরি সেখানে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চাকরির নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন সুবিধার কারণে সরকারি ও সিভিল সার্ভিসের পদগুলোতে প্রতিযোগিতাও তীব্র।
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই কয়েক লাখ প্রার্থী আবেদন করেন। অনেক তরুণ বছরের পর বছর এসব পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় ২ হাজার ২৫টি পদের বিপরীতে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার আবেদন জমা পড়ে। আরেকটি নিয়োগে ৫১০টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৩ লাখ ২২ হাজারের বেশি প্রার্থী।
বিরোধী কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ একটি আঞ্চলিক দলের নেতৃত্বাধীন ঝাড়খণ্ড সরকার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এবং আরও আলোচনার দরজাও খোলা রয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। আর সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।’
ইতোমধ্যে এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির ঘটনায় কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকেও পদ হারাতে হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যানকে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিশনের আরও তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
সরকারি চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় দুর্নীতি, ভালো চাকরির সংকট এবং অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ভারতের তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ বাড়ছে, ঝাড়খণ্ডের এই বিক্ষোভ তারই প্রতিফলন। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতে বেকারত্বের হার কমে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। তবে আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশই বেকার।
বসির আহমেদ