ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন একটি বিমান নিয়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়েছিলেন। তবে দেশ ছাড়ার সময় তিনি হঠাৎ পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার ঘোষণা দেন। এতে নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে এই নতুন বিমানটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম আন্তর্জাতিক সফরের বাহন। দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়নের কারণে বিমানটির খরচ ও নিরাপত্তা নিয়েও এর আগে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। একই সময়ে তুরস্কের প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাও বাড়ছিল।
আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি “পুরোনো দিনের কথা মনে করে” পুরোনো নীল-সাদা এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে যাবেন। একই সময়ে নতুন বিমানটিও ওই ঘাঁটিতে যাবে, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটি ছিল এয়ার ফোর্স সি-৩২এ। এ অভিযানের সঙ্গে পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পাওয়া একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির পর এই গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর আগে ২০০০ সালে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। সে সময় তিনি একটি চিহ্নহীন সরকারি বিমানে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন এবং তাঁর নিয়মিত এয়ার ফোর্স ওয়ানকে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ডামি বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এবারও ট্রাম্পের সঙ্গে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করছেন বলে ধারণা করা সাংবাদিকদের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এমনকি কিছু হোয়াইট হাউস কর্মীও বিশ্বাস করছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ওই বিমানেই রয়েছেন।
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, বিমানে কেন জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত আমরা একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলাম।” এরপর তিনি বলেন, “কিন্তু আমি গেলে তোমরাও যাবে, তাই তো?”
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও কয়েক মিনিট পর সেখানে পৌঁছান। তবে ট্রাম্প কীভাবে সি-৩২এ থেকে আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরে গেলেন, তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের দল জানায়, রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন। সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে শান্তির প্রতীক দেখালেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যাননি। পরে তিনি সেখানে থাকা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কিছু সময় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এরপর কাতারের দেওয়া নতুন বিমানের দিকে এগিয়ে যান।
তৃতীয় একটি বিমানে ট্রাম্পের গোপন সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাইলে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং বলেন, কাতারের দেওয়া বিমানটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
চেউং বলেন, “প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমন বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু রয়েছে, যারা তার ওপর নজর রাখছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় আমরা ব্যবহার করছি।”
ওয়াশিংটন পোস্টকেও একই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের জন্য কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমানটি একটি বোয়িং ৭৪৭। গত বছর কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে বিমানটি উপহার দেয়। পরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এল৩হ্যারিস টেকনোলজিস বিমানটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে।
বোঝাপড়া অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের এয়ার ফোর্স ওয়ান সরবরাহে বোয়িংয়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ওই বিমানটি সাময়িক বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বসির আহমেদ