অ্যাপলের পাঠানো সতর্কবার্তায় ব্যবহারকারীদের উন্নত ডিজিটাল হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন, তাদের দ্রুত সতর্ক করা এবং নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করাই এ সতর্কতার উদ্দেশ্য। সাধারণ সাইবার অপরাধের তুলনায় এ ধরনের হামলা অনেক বেশি পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর।
অ্যাপল জানিয়েছে, হামলাকারীরা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে। এ ধরনের স্পাইওয়্যার হামলা পরিচালনায় লাখ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্পাইওয়্যার অল্প সময় সক্রিয় থাকায় সেগুলো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর এ ধরনের হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। অ্যাপলের মতে, নাগরিক সমাজের সংগঠন, সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উচ্চ ব্যয়ের এ ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সাইবার হামলার সঙ্গে অনেক সময় রাষ্ট্রীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকে।
সরকারের হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের স্পাইওয়্যার তৈরি করে থাকে। এর মধ্যে এনএসও গ্রুপের তৈরি বহুল আলোচিত ‘পেগাসাস’ অন্যতম। সাধারণত সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতো অল্পসংখ্যক মানুষ এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। তবে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের হামলার ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।
অ্যাপলের সতর্কবার্তা পাওয়া ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘লকডাউন মোড’ চালু করা অন্যতম। প্রয়োজনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেস নাও পরিচালিত ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন’ থেকে জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও নিয়মিত কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পেতে ডিভাইসের সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি পাসকোড, ফেস আইডি বা টাচ আইডি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালু রাখার পরামর্শও দিয়েছে অ্যাপল। বাড়তি সুরক্ষার জন্য ‘চুরি হওয়া যন্ত্র সুরক্ষা’ সুবিধা চালু করা যেতে পারে। যেসব অঞ্চলে সুবিধাটি রয়েছে, সেখানে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে পাসকি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাপলের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের শুধু অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত এবং অপরিচিত লিংক, ফাইল বা বার্তায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বসির আহমেদ