অথচ সেই লিটন দাসের অস্ট্রেলিয়া সফর কাটছে চরম দুঃস্বপ্নে। তিন ইনিংসে ব্যাট করে তিনবারই রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছেন তিনি, অর্থাৎ ‘ডাক’ মানে শূন্য। তিনবারই বাংলাদেশের এই ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক।
দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে এক থেকে ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাট করা ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্তত তিন ইনিংস খেলে শূন্য রানে আউট হওয়া ষষ্ঠ ব্যাটার এখন লিটন। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন গোডার্ড ও অগাস্টিন লোগি, ভারতের মহিন্দর অমরনাথ, শ্রীলঙ্কার অর্জুন রানাতুঙ্গা এবং জিম্বাবুয়ের ওয়েসলি মাধভেরে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি সিরিজে লিটনের প্রথম ‘ডাক’ আসে ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে। মিচেল স্টার্কের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১২ বলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে বাংলাদেশ ম্যাচটি ৯ উইকেটে জিতে নেওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার প্রয়োজন হয়নি লিটনের।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও দলের চরম বিপদের সময় ক্রিজে নামেন লিটন। মাত্র ১০ রানে চার উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে এসে স্টার্কের বাউন্সারে স্লিপে ক্যাচ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। কিন্তু পরের বলেই ভেতরে ঢুকে আসা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসেও একই গল্প। ইনিংস পরাজয় এড়ানোর লড়াইয়ে ৫১ রানে চার উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন। রানের খাতা খোলার জন্য চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই স্বচ্ছন্দ হতে পারছিলেন না। তার এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব বুঝতে পেরে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আবারও বল তুলে দেন স্টার্কের হাতে।
অধিনায়ককে হতাশ করেননি স্টার্ক। মাত্র ১০ বল খেলে শূন্য রানেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন ইনিংসে তিন ‘ডাক’ নিয়ে দুঃস্বপ্নের এক সফর কাটছে তার।
এদিকে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে টানা শূন্য রানে আউট হওয়ার তালিকায় লিটন এখন সবার ওপরে। তার চেয়ে বেশি টানা ‘ডাক’ রয়েছে কেবল রুবেল হোসেন ও সৈয়দ খালেদ আহমেদের- দুজনেরই চারটি করে। তবে, তারা দুজনই মূলত বোলার।
বসির আহমেদ