ফাইল ছবি
পরে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত শিশু আসুযাত পাংশা উপজেলার যশাই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে কোনো একটি বিষাক্ত প্রাণী বা সাপে কামড় দেয়। তবে ঠিক কটার সময় কামড় দিয়েছে, তা পরিবারের কেউ নিশ্চিত বলতে পারেননি। কামড় দেওয়ার পর শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হলে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে।
কিন্তু স্বজনেরা হাসপাতালে না নিয়ে শিশুটিকে প্রথমে এক ওঝা বা সাপুুরের কাছে নিয়ে যান। তারা সাপটি দেখতে না পেলেও হাতে দুটি কামড়ের দাগ দেখতে পান। ওঝারা তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়ে বলেন যে তাদের তাদের দ্বারা এটা সম্ভব না, আপনারা দ্রুত পাংশা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বজনরা শিশুটিকে রাত ৩টার দিকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর সাথে সাথে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইনজামামুল হক শিহাব শিশুটির একটি ইসিজি (ECG) করেন এবং তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর ওঝা বা বৈদ্যের কাছে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) দিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়। কিন্তু আজও সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ কুসংস্কারের বশে ওঝা-বৈদ্যের ওপর ভরসা করে জীবন হারাচ্ছেন। তিনি বলেন, সাপে কাটার পর চিকিৎসায় কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দিলে রোগীকে বাচান সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপের সৃষ্টি হয়েছে।
বসির আহমেদ