ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সত্যিই পবিত্র মক্কায় ড্রোন ছুড়েছে হুথিরা? ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্য!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 16, 2026 ইং
সত্যিই পবিত্র মক্কায় ড্রোন ছুড়েছে হুথিরা? ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্য! ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পবিত্র নগরী মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব। ১৫ সেপ্টেম্বর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরের পাশাপাশি মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ অঞ্চলে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে বিপদ কেটে গেছে উল্লেখ করে কিছুক্ষণ পরই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

এরপরই ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছোড়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি আগেভাগেই শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

পরস্পরবিরোধী এই দাবির প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—মক্কার দিকে ছোড়া ওই ড্রোনটি আসলে কার? নাকি তৃতীয় কোনো পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে? তেমনটি হলে এর উদ্দেশ্যই বা কী ছিল?

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন, ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দিকে এগিয়ে আসা একটি শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করে। তবে পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়।

ঘটনাটিকে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আল-মালিকি। তিনি সতর্ক করে বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এগুলোকে ‘রেড লাইন’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড্রোন শনাক্তের ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কায় স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। একই ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয় জেদ্দা ও তায়েফেও। পরে সৌদি সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মক্কায় বিপদের ঝুঁকি কেটে গেছে।

নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভিড় এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। দ্রুত নিরাপত্তা সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও এ ঘটনায় মক্কাকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়েও মক্কাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল হুথিদের বিরুদ্ধে। সৌদি আরব তখনও দাবি করেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কার দিকে যাচ্ছিল এবং তা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হুথিরা ওই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তারা পবিত্র স্থানগুলোকে কখনোই লক্ষ্যবস্তু করে না।

এবারও একই অবস্থান নিয়েছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সৌদি অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রচারণা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সৌদির দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ ‘বমি উদ্রেককারী মিথ্যা’। এর আগেও বহুবার এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে হুথিরা। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি ধ্বংস করা হয়। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এ দাবি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

অন্যদিকে বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও লোহিত সাগরে জাহাজে হুথিদের নিয়মিত হামলার মধ্যে মিশরের সমর্থন চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ১৫ সেপ্টেম্বর কায়রোতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও সৌদি আরবের প্রতি অবিচল সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তবে কায়রোর পক্ষ থেকে রিয়াদকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। মিসর গত তিন বছর ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে ইরান ও দেশটির মিত্রদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছে কায়রো।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ