ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে: ধ্রুব রাঠি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 12, 2026 ইং
ভারতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে: ধ্রুব রাঠি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। বিজেপি সরকার এই আন্দোলন ঘিরে জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তার অভিযোগ, বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়ে আন্দোলন দমনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ অক্টোবর দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে রাঠি বলেন, ভারতে কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। নির্বাচন কমিশন, আদালত ও পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র দুইজন ব্যক্তি, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাঠি বলেন, আমি অহিংসা ও গান্ধীতে বিশ্বাস করি। আর এই মানুষগুলো বিশ্বাস করে গডসেতে। নাথুরাম গডসে ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী।  সংবাদ সম্মেলনে রাঠি বলেন, এখন এটি জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি। ইন্দিরা গান্ধী অন্তত ঘোষণা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার ঘোষণাও দিচ্ছে না। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের পাশাপাশি দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বিদেশি শক্তির অর্থায়নে ভারতে বিক্ষোভ করছেন, এমন অভিযোগও নাকচ করে রাঠি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেন।  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির চলমান এই আন্দোলন মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচরা।  তবে বিক্ষোভের আগেই শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় ধ্রুব রাঠিকে। তার দাবি, সাদা পোশাকে প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য বাড়িতে ঢুকে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় শয়নকক্ষ থেকে তুলে নিয়ে যান। রোববার মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওতে ঘটনাটিকে অপহরণ বলে বর্ণনা করেন রাঠি।    একই বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আটক হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের আরও দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। নানান নাটকীয়তার পর অবশেষে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। ছাড়া পাওয়ার পরপরই রোববার অভিজিৎ দীপকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিবাদ না করার মুচলেকায় স্বাক্ষর করেননি তারা এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে দীপকে লেখেন, আমরা কোনো নতিস্বীকার করিনি, সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আমরা আবারও রাজপথে নামব।  এদিন মুক্তি পাওয়ার ককরোচদের আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, লড়াই সবে শুরু হয়েছে। থামবে না। এই সরকারের ঘণ্টা বেজে গেছে। পতন আসন্ন। সৌরভ দাস বলেন, এই আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।  মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সৌরভ বলেন, সরকার ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা নিজেরাই ভীত ও সন্ত্রস্ত। এই সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের একটাই লক্ষ্য, জ্ঞানেশকে বাঁচানো, যে কিনা এক নম্বর দেশদ্রোহী। মোদীর বিজেপি সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশের যুবসমাজকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচ নেতারা। এ প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, রাস্তায় নেমে সবাই জানান, মানুষকে বোঝান, গোটা ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটা চলছে স্রেফ দুজন মানুষকে বাঁচানোর জন্য। একজন নরেন্দ্র মোদি, আরেক জন অমিত শাহ। সার্বিক পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, চলমান এই আন্দোলন বিজেপি সরকারের পতনের ঘণ্টাধ্বনি।  


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
হাদি হত্যার ২ আসামিকে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে ভারত

হাদি হত্যার ২ আসামিকে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে ভারত