ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দেশে তিন মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 12, 2026 ইং
দেশে তিন মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী >নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫.০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে ব্যবসা করা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা করছেন এবং সেই মুনাফা আবার এ দেশেই বিনিয়োগ করছেন। 

>নিট ইকুইটি মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭৭.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৭৭ শতাংশ কম। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

>নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫.১৭ শতাংশ কমে ৮.৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩৩.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণপ্রবাহ এলেও বিদ্যমান ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধ হওয়ায় নিট ঋণপ্রবাহ কমেছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে সারা দেশে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন। এপ্রিল–জুন ২০২৬ প্রান্তিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৩৩ শতাংশ কম। তবে আগের প্রান্তিকের ০.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন ) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব রক্ষণশীল থাকায় নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশে যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি আমরা দেখছি। এটি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছি, যাতে বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আসে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি আমাদের ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করাও আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। যেমন, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। এখন এর উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে কী কী কাজ হয়েছে, আর কোথায় আরও কাজ করা প্রয়োজন, তা আমরা জানিয়েছি। সামনে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও নিয়মিত জানাব। আমরা চাই, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থানে রূপ নিক।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে খুব শিগগিরই হামলা চালাবে মার্কিন বা

ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে খুব শিগগিরই হামলা চালাবে মার্কিন বা