ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের স্বর্ণ-রুপার ওজন নির্ধারণ, মিলেছে ১৭ দেশের মুদ্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 13, 2026 ইং
পাগলা মসজিদের দানবাক্সের স্বর্ণ-রুপার ওজন নির্ধারণ, মিলেছে ১৭ দেশের মুদ্রা ছবির ক্যাপশন:
ad728

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দীর্ঘ ছয় বছর পর দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার শ্রেণিবিন্যাস, ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। বিকালে স্বর্ণ-রুপার ওজন নির্ধারণ এবং রাতে বৈদেশিক মুদ্রার গণনা শেষে স্বর্ণ-রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারির ডাবল লকে সংরক্ষণ করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণ মিলিয়ে পাওয়া গেছে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম, যা স্থানীয় হিসাবে এক হাজার ৪৪ ভরি ১৪ আনা ৪ রতি। আর রুপা পাওয়া গেছে ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম। এসব স্বর্ণ-রুপা বিক্রির বিষয়ে নয় সদস্যের উপকমিটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিলামের ব্যবস্থা করবে।

বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে পাওয়া গেছে মার্কিন ডলার আট হাজার ৫৭, সৌদি রিয়াল ৫৭ হাজার ৪১৪, মালয়েশীয় রিঙ্গিত ২৯ হাজার ৬৬২, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ১৪ হাজার ২৪০, কুয়েতি দিনার ৭৬৭, ওমানি রিয়াল ৮৮৮, কাতারি রিয়াল সাত হাজার ৯৭৩, বাহরাইনি দিনার ৩৩৩, সিঙ্গাপুরের ডলার এক হাজার ৭১৮, ব্রিটিশ পাউন্ড এক হাজার ২২০, ইউরো পাঁচ হাজার ২৪৫, অস্ট্রেলীয় ডলার ৫৫৫, কানাডীয় ডলার ২৫, মালদ্বীপের রুফিয়া ৯০০, জর্ডানি দিনার ৯২, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭ এবং চীনা ইউয়ান ৩০৫।

এ ছাড়া ১০০ টাকা মূল্যমানের ১১৮টি প্রাইজবন্ড এবং বিভিন্ন দেশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন দুই হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা পাওয়া গেছে। এসব মুদ্রা শনাক্ত করতে পারেননি রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা। মুদ্রাগুলো শনাক্ত করতে আরও বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশি নিরাপত্তায় বৈদেশিক মুদ্রাগুলো রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগে পাঠানো হবে। সেখানে দিনের বিনিময় হার অনুযায়ী মুদ্রাগুলো বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করা হবে। পরে সেই অর্থ পাগলা মসজিদের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা দেওয়া হবে। বৈদেশিক মুদ্রা থেকে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর জানানো হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ-রুপার ওজন নির্ধারণ ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়েছিলো। ওই সময় নিলামে বিক্রি হওয়া ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ ও ১৮৪ ভরি রুপার মূল্য ছিলো এক কোটি ১৫ লাখ চার হাজার ৯০০ টাকা। আর বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল এক লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা। এরপর ২০২৬ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হলেও ট্রেজারিতে সংরক্ষিত স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব এবার করা হলো।

এদিকে, জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাগলা মসজিদের তহবিলে বর্তমানে জমা রয়েছে ১০১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। অনলাইনে অনুদান এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা। মসজিদ কমপ্লেক্সে মুসল্লিদের সুবিধার্থে নামাজের শেড, অজুখানা ও নারীদের জন্য ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্

‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্