তবে কিছু অস্বাভাবিক আচরণ দেখে আগেই বোঝা যেতে পারে, ফোনে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছে কি না।
ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় হঠাৎ ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে থাকলে সতর্ক হতে হবে। ফোনে থাকা ম্যালওয়্যার ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ হতে পারে।
ব্যবহার না করলেও ফোন গরম থাকা ফোন ব্যবহার না করেও যদি সেটি অস্বাভাবিকভাবে গরম থাকে, সেটিও সন্দেহের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ডেটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ফোনের স্বাভাবিক কাজ ধীর হয়ে যাওয়া কল করা, মেসেজ পাঠানো বা ওয়েবপেজ খোলার মতো সাধারণ কাজেও যদি ফোন আগের তুলনায় বেশি সময় নেয়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যারের কারণে ফোনের কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডেটা ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ফোনে ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। ম্যালওয়্যার অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য অতিরিক্ত ডেটা ব্যবহার করতে পারে।
অজান্তে কল বা মেসেজ চলে যাওয়া আপনার অজান্তেই ফোন থেকে কল বা মেসেজ পাঠানো হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। পাশাপাশি হঠাৎ করে একের পর এক পপ-আপ বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও সতর্ক হতে হবে। এগুলো ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যার বা অ্যাডওয়্যারের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে।
অচেনা অ্যাপ দেখা দেওয়া নিজে ডাউনলোড না করলেও ফোনে নতুন কোনো অ্যাপ দেখা গেলে সেটি পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করা কোনো অ্যাপও সন্দেহের কারণ হতে পারে।
অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কার্যক্রম ই-মেইল বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে নতুন ডিভাইস থেকে লগইনের চেষ্টা, পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নোটিফিকেশন কিংবা অচেনা কার্যক্রম দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
হঠাৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে অস্বাভাবিক কোনো নোটিফিকেশন পাওয়ার পর ফোন রিবুট করেও দীর্ঘ সময় নেটওয়ার্ক না এলে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে এটিকে ‘নম্বর পোর্টিং অ্যাটাক’-এর সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কারণে ফোন ঝুঁকিতে পড়তে পারে অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা, ক্ষতিকর অ্যাপ ডাউনলোড করা, অনিরাপদ পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার এবং একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাবলিক চার্জিং স্টেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইনে চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রলোভনে অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল করা এবং জনসমাগমস্থলে ফোন অন্যের হাতে দিয়ে রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ফোন হ্যাক হয়েছে সন্দেহ হলে যা করবেন ফোনে অননুমোদিত প্রবেশের সন্দেহ হলে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি সম্ভব হলে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা উচিত। গুরুতর পরিস্থিতিতে ডিভাইস রিস্টোর করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিরাপদ ব্যাকআপ থেকে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ওয়ালেট ও ক্রেডিট কার্ডে অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে কি না নিয়মিত নজরে রাখতে হবে। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
বসির আহমেদ