ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জলবায়ু সংকটে বড় হুমকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, ইসিবির সতর্কতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 1, 2026 ইং
জলবায়ু সংকটে বড় হুমকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, ইসিবির সতর্কতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল্ডারসন বলেন, “ইকোসিস্টেমের এই সেবাগুলো আর স্থিতিশীল নেই, বরং দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাই জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকটকে আমরা একই সঙ্গে বিবেচনা করছি। ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে আমরা বুঝতে পেরেছি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সম্প্রতি ফ্রান্স ও স্পেনে রেকর্ড তাপমাত্রার মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে বিস্তীর্ণ এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। প্রাণহানির পাশাপাশি এসব দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও ব্যাপক হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল্ডারসনের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে, যা সরাসরি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু চরম আবহাওয়ার ঘটনাই নয়, প্রকৃতির ওপর অর্থনীতির নির্ভরতা অনেক বেশি জটিল হওয়ায় ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস ধসে পড়ার ঝুঁকি মূল্যায়নে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস বলতে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরনের সুবিধাকে বোঝায়। যেমন—পানি কাঁচামাল, জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল, যা খাদ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য এবং পর্যটন ও বিনোদন খাতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

এল্ডারসন বলেন, “প্রকৃতিসংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ঋণঝুঁকি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃতিকে ধ্বংস করা মানে আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তিকে ধ্বংস করা। এটি কোনো আবেগের বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্থিতিশীলতার কেন্দ্রীয় বিষয়।”

ডাচ আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকার ফ্র্যাঙ্ক এল্ডারসন ২০১৭ সালে নেটওয়ার্ক ফর গ্রিনিং দ্য ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম (NGFS) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জলবায়ুজনিত আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করা ১১৪টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নেটওয়ার্কের তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারও ছিলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পরিবেশবান্ধব আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র NGFS থেকে সরে দাঁড়ায়, ফলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অংশগ্রহণ ছাড়াই জলবায়ুজনিত আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউরোপ।

তবুও এল্ডারসনের বিশ্বাস, ইউরোপের ব্যাংকিং খাত এখন জলবায়ু ও প্রকৃতিসংশ্লিষ্ট ঝুঁকিকে আর উপেক্ষা করছে না।

তার ভাষায়, “আমার মনে হয়, ইউরোপে এমন কোনো ব্যাংক খুঁজে পাওয়া কঠিন, যারা আন্তরিকভাবে বলবে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময় এখন আর নেই।”

সূত্র: গার্ডিয়ান


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিলের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মকে জানানোর

২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিলের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মকে জানানোর