সোমবার (২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে লাক্সন বলেন, নিউজিল্যান্ডের একটি প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। প্রস্তাবিত বিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের জন্য ‘যুক্তিসংগত পদক্ষেপ’ নিতে বলা হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
লাক্সন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন প্রযুক্তি এবং এমন নানা চাপের মধ্যে ফেলছে, যা মোকাবিলার জন্য তারা এখনও প্রস্তুত নয়। এর প্রভাব তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক সুস্থতা, ঘুম এবং শিক্ষার ওপরও পড়ছে। তবে প্রস্তাবিত বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ লাক্সনের জোটসঙ্গী নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি জানিয়েছে, তারা বিলটিকে সমর্থন করবে না।
দলটির নেতা ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, প্রস্তাবিত আইন নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের আইন দেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়েও তারা চিন্তিত।
গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে। এর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। ওই আইনের আওতায় টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টির নেতা পিটার্স অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগকে ‘চরম ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদের। প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী লাক্সন।
এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিষয়টি সহজ হবে না এবং এর বাস্তবায়নও নিখুঁত হবে না। সব শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভব হবে না; কেউ কেউ নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজে নেবে। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে অন্তত চেষ্টা না করে বসে থাকা উচিত নয়।
সূত্র: গার্ডিয়ান
বসির আহমেদ