সংস্থাটি জানায়, আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযান পরিচালনা করে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০টি মামলা করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়।
এ ছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নয়টি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাতটি মামলা করা হয়েছে।
এই সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআইয়ের সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই সাত দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় চারটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ও রং ব্যবহার, কাচ্চুরি তৈরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় চারটি মামলা করা হয়েছে।
বিএফএসএ জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারা দেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয়।
মনিটরিংয়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিএফএসএর বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।
বসির আহমেদ