এদিকে, গণপিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুমাইয়া (২৬)। তিনি ওই বিদ্যালয় এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আমিরুলের স্ত্রী। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুল ছাত্রী ফারজানা প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যায়। তবে স্কুল ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়ি ফিরে না আসায় তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে তারা বিষয়টি কালিগঞ্জ থানায় জানান।
খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার বসতঘরের ভেতরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, শিশু ফারজানার মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে হত্যার আসল রহস্য জানা যাবে। তিনি আরও জানান, স্কুল ছাত্রী হত্যাসহ স্থানীয়রা ‘মব’ তৈরি করে অভিযুক্ত নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বসির আহমেদ