সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক ডা. কর্নেল আলমগীর, রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি এস এম শফিউল আজম, সদস্য সচিব ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল, ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দুর্গম পাহাড়ি এই জনপদে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং পাহাড়ধসের মতো দুর্যোগ দেখা দেয়। এতে নিম্নআয়ের ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার অনেক পরিবার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে এই ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে দীপন তালুকদার দীপু বলেন, “পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক দুর্যোগের মুখে পড়ে মানুষ যখন চরম মানবিক সংকটে দিন কাটায়, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। বিলাইছড়ির মতো চরম দুর্গম ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে রেড ক্রিসেন্টের এই উদ্যোগ ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে কেবল সরকার বা নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন নয়, বরং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসার জোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ফারুয়া ইউনিয়ন ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হওয়ায় দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।
তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিরাপদ বসতি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
ফারুয়ায় ৫০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে দুর্গম ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে রেড ক্রিসেন্টসহ অন্যান্য মানবিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
বসির আহমেদ