রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রফতানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার (শিপ রিসাইক্লিং), লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রফতানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রফতানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রফতানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।”
বসির আহমেদ